নববর্ষ উদযাপনে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তায় ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকায় ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের শুরু থেকেই অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বর্ষবরণের মূল কেন্দ্রবিন্দু 'রমনা বটমূল' ও এর আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এ ছাড়াও জনসমাগমপূর্ণ এলাকা যেমন— হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর এলাকা, শহীদ জিয়া শিশু পার্ক এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবির টহল ও উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই রাজধানীজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই রমনার বটমূলে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’-এ প্রতিপাদ্যে সুমধুর সংগীতের মূর্ছনায় নতুন বছরকে বরণ করে নেন ছায়ানটের শিল্পীরা। শতাধিক শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে পুরো রমনা এলাকা সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে মোরগ, ভায়োলিন, পায়রা, হাতি ও ঘোড়ার মোটিফ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
শহরের ইট-পাথর থেকে গ্রামের মেঠোপথ—সর্বত্রই মানুষ পুরনো বছরের জরাজীর্ণতা ভুলে নতুনের আবাহনে মেতে উঠেছে। আধুনিকতার ভিড়েও বৈশাখী মেলা ও হালখাতার মতো চিরচেনা ঐতিহ্যগুলো এখনো অমলিন। পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মোহনায় পরিণত হয়েছে, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই গেয়ে উঠছে নতুন জীবনের গান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিজিবির এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা তৎপরতা জনমনে স্বস্তি এনে দিয়েছে, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে