নিউমার্কেটে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষে আহত ২০
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও স্থানীয় যুবদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বলাকা সিনেমা হলের সামনে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ পরে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারীরা কয়েকটি দোকান বসিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে দোকানগুলো সরিয়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি হয়।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
এ ঘটনার খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেটসংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এরপর দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, সদস্য সাগর খান ও সায়মন ইসলামসহ অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
চঞ্চলের বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কয়েকজন কর্মী ব্যবসা করে আসছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সেখানে গিয়ে তাদের মারধর করেন। পরে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। দোকান বসানো ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এর আগেও কয়েক দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিষয়টি উভয় সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মতামত দিন