নেপালে তুষারধসে নিহত ২, নিখোঁজ ১২
নেপালের ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং পর্বতে তুষারধসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১২ জন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
রোববার হিমলুং পর্বতে তুষারধসের পর অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ সোমবার হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুর বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে মরদেহগুলো ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুঙ জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েছেন। এখনো ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আটজনের একটি পর্বতারোহী দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিরা সবাই নেপালের নাগরিক। বিদেশি পর্বতারোহীদের আসার আগে তাঁরা হিমলুংয়ের বেস ক্যাম্প প্রস্তুত করছিলেন। চলতি মাসেই শুরু হয়েছে নেপালের শরৎকালীন পর্বতারোহণ মৌসুম।
এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে সপ্তাহান্তে হিমলুং অবস্থিত মানাং জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। দেশজুড়ে বৈরী আবহাওয়ার সতর্কতাও জারি করেছে নেপাল সরকার।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে আরও ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে আগস্টের ভয়াবহ বন্যার ধাক্কাও সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। ওই দুর্যোগে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ওই দুর্যোগের পেছনে কোনো একক চরম আবহাওয়ার ঘটনা দায়ী ছিল না। দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলে যাওয়া, পারমাফ্রস্ট বা স্থায়ী বরফস্তর গলে যাওয়া এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে সেখানে একটি ‘সম্মিলিত সংকট’ তৈরি হয়েছিল।
মতামত দিন