ইরানে অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ১৪ আইআরজিসি সদস্য নিহত
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাঞ্জান প্রদেশে অবিস্ফোরিত মাইন ও গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেশটির বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার জাঞ্জান শহরের কাছে একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আইআরজিসির একটি টিম তল্লাশি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত অবিস্ফোরিত বোমা ও গোলাবারুদ শনাক্ত করে সেগুলো অপসারণের দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁরা। অভিযান চলাকালে একটি অজ্ঞাত গোলাবারুদ হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
জাঞ্জানের আইআরজিসির 'আনসার আল-মাহদি' ইউনিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতরা সবাই এই বাহিনীর অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এলাকাটিতে ক্লাস্টার বোমা এবং আকাশ থেকে ফেলা মাইনসহ প্রচুর বিপজ্জনক যুদ্ধাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই আইআরজিসি সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলেও অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্রের ঝুঁকি এখনো প্রবল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি অবিস্ফোরিত বোমা ও মাইন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যৌথ বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পর ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এখনো সাধারণ নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে