পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩
পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজকা প্রদেশে পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটিতে থাকা ১৩ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।
নিহতদের মধ্যে ১১ জন বিদেশি পর্যটক এবং দুজন বিমানের ক্রু সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পেরুর পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত পর্যটকদের মধ্যে সাতজন ইতালীয় নাগরিক, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে; দুজন স্প্যানিশ নাগরিক, উভয়েরই বয়স ৫২ বছর; এবং দুজন জার্মান নাগরিক, যাদের বয়স ৭৭ ও ৭৮ বছর। এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বিমানের পাইলট আমেরিকো সালাজার এবং কো-পাইলট ইরেনকা গুয়ানিলো দেল কারপিও।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেরুর বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা এরোদিয়ানা পরিচালিত সেসনা কারাভান সি-২০৮ মডেলের বিমানটি স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টার দিকে পর্যটকদের নিয়ে পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান নাজকা লাইন্সের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় বেলা ১টার দিকে বিমানের ক্রু নাজকা বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জরুরি বার্তা পাঠান। এরপরই বিমানটির সঙ্গে সব ধরনের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর নাজকা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুয়েবলো ভিয়েহো এলাকার একটি খোলা মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরপিপির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই বিমানে আগুন ধরে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিধ্বস্ত বিমানটির দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া নিহতদের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধারে এবং এলাকাটি ঝুঁকিমুক্ত করতে ঘটনাস্থলে টানা কয়েক ঘণ্টা উদ্ধার তৎপরতা চালান জরুরি সেবার সদস্যরা।
নাজকা পুলিশের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, ১১ যাত্রী ও দুই ক্রু সদস্যের সবাই মারা গেছেন।"
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। পেরুর বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্তকাজ শুরু করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় 'গভীর শোক' প্রকাশ করেছে নাসকা প্রাদেশিক পৌরসভা। এ ছাড়া
এক বিবৃতির মাধ্যমে এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান ‘এরোদিয়ানা’ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং তদন্ত চলাকালে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে বিমান পরিচালনা পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।
নাজকা লাইন্স পেরুর মরুভূমির মাটিতে খোদাই করা কয়েকশ বিশাল আকৃতির প্রাচীন জ্যামিতিক নকশা ও চিত্রকর্ম, যা কেবল আকাশপথ থেকেই সম্পূর্ণরূপে দেখা সম্ভব। এ কারণে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন আকর্ষণ ঘিরে দর্শনীয় বিমান ভ্রমণের ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে।
নাজকা লাইন্স দেখতে গিয়ে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২২ সালে অনুরূপ এক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছিলেন এবং ২০১০ সালের একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ছয়জন।
মতামত দিন