Views Bangladesh Logo

গাজী টায়ার কারখানায় আগুন: নিখোঁজ ১২৯, এখনো পাওয়া যায়নি একটি মরদেহও

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ারস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১২৯ জন নিখোঁজ থাকার কথা শোনা গেলেও বুধবার (২৮ অগাষ্ট) দুপুর পর্যন্ত একটি লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত সাততলা ভবনটির প্রথম, চতুর্থ এবং পঞ্চম তলায় এখনও আগুন জ্বলছে। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, উত্তাপ থাকায় এখনও পানি ছিটিয়ে যাচ্ছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা জানিয়েছেন, সকালে আগুন নেভানোর পর ছয়তলা ভবনটির সিঁড়ি দিয়ে চারতলা পর্যন্ত উঠা গেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উপরের তলাগুলোতে আর উঠা যায়নি। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে যত দূর দেখা গেছে, সেই জায়গাগুলোতে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

ভবনটির বিভিন্ন তলার দেয়াল ধসে পড়ছে। কয়েকটি তলার মেঝের অংশ ভেঙে পড়েছে। আগুন নিভে গেলেও প্রচুর তাপ রয়েছে, যা ভবনের বাইরে থেকেও বোঝা যাচ্ছে। এ কারণেই ভবনটির ভিতরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা প্রবেশ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তালহা বিন জসিম, স্টেশন অফিসার (মিডিয়া সেল) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

এদিকে এ ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন শত শত স্বজন।

রবিবার (২৫ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজী টায়ার কারখানায় কয়েক শ লোক প্রবেশ করে লুটপাট শুরু করে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তদের কেউ ভবনটির নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ডেমরা, আদমজী ইপিজেড, আড়াইহাজার, নরসিংদী, কাঞ্চন, হাজীগঞ্জ, ঢাকার সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিসের ১২টি প্রায় ২২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, কারখানাটির মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। গতকাল ভোররাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই খবর তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে টায়ার প্রস্তুতকারী কারখানাটির অদূরে একটি মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। এ ঘোষণার পর কয়েক শ মানুষ জড়ো হন কারখানাটির সামনে। পরে লুটপাট শুরু হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ