Views Bangladesh Logo

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২০ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন আরও ১২০ জন ফিলিস্তিনি।

এ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৫ হাজার ১০৪ জনে। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ২৭ হাজার ৩৯৪ জন।

বুধবার (১১ জুন) নিহতদের মধ্যে দুটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারান ৫৭ জন ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি। আহত হন ৩৬৩ জন। এ নিয়ে শুধুমাত্র ত্রাণ নিতে গিয়েই নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২০৫ জনে, আহত হন সহস্রাধিক।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দুটি ত্রাণকেন্দ্রই পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)।

নির্মম হামলাগুলোকে 'ত্রাণ দেয়ার নামে' নিরীহ-নিরস্ত্র ও ক্ষুধায় কাতর ফিলিস্তিনিদের জড়ো করে নির্বিচারে গণহত্যার' ঘটনা বলে অভিযোগ তুলেছে গাজা কর্তৃপক্ষ। এজন্য মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছে হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকার।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষও বলছে, বিতরণকেন্দ্রগুলো মূলত ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত। ফলে এসব স্থানে ভিড় জমানো ক্ষুধার্ত মানুষ প্রায়শই গোলাগুলির মুখে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে গাজাবাসী এসব কেন্দ্রকে অভিহিত করছেন ‘মানব কসাইখানা’ হিসেবে।

অবরুদ্ধ উপত্যকাটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্স’ জানায়, মধ্য গাজার নেতজারিম করিডর’ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ভোররাত থেকে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ৩১ জন নিহত ও প্রায় ২০০ জন আহত হন।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, মঙ্গলবার (১১ জুন) দিবাগত রাত দুইটা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত খাবার বিতরণকেন্দ্রের কাছে জড়ো হন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। তাদের ওপন কয়েক দফা ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। ভোর সাড়ে পাঁচটায় গোলাবর্ষণের তীব্রতা বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করেও বেসামরিক লোকজনের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা শহীদ অন্তত ৩১ জনের মরদেহ এবং প্রায় ২০০ জন আহতকে উদ্ধার করেছি'।

অন্য হামলাটি চালানো হয় গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা ত্রাণকেন্দ্রের কাছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ২৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে জানায় আল–জাজিরা। তাদের মরদেহ নাসের হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত হন অন্তত ১৬৩ জন।

গুলিবর্ষণের কথা স্বীকার করে বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের দাবি, নেতজারিম করিডর এলাকায় রাতে সেনারা ‘সতর্কতামূলক গুলি’ চালিয়েছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল সুপরিকল্পিতভাবে গাজায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এবং ত্রাণের আশায় আসা মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তারা হত্যাকৌশল চালাচ্ছে'।

এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, তারা জিএইচএফ পরিচালিত কোনো ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেবে না।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে নিহতদের সংখ্যা। মানবিক সংকটের মধ্যেও আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইউনিসেফ বলছে, গাজায় ইসরায়েল কার্যত ‘শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। একদিকে বিমান হামলায় বোমার বিস্ফোরণ, অন্যদিকে অবরোধে চরম খাদ্যসংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা—এই দ্বিমুখী আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ