Views Bangladesh Logo

গাজায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আরও ১১ জনের মৃত্যু

গাজা উপত্যকায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আরও ১১ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু  হয়েছে। এ নিয়ে এমন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ জনে, যাদের মধ্যে ৯৮ জনই শিশু।


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে শনিবার (৯ আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে,  গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের সামরিক হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। এতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু এ যুদ্ধে গাজায় অন্তত ৬১ হাজার ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও অন্তত এক লাখ ৫২ হাজার ৮৫০ জন আহত হয়েছেন।


এদিকে গাজা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর জানা গেছে, সেখানকার বাসিন্দাদের আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) অনুমোদিত ও প্রকাশিত ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনায় গাজা যুদ্ধের অবসানে পাঁচটি ‘মূল নীতি’ উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটি হলো এলাকার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, প্রথম ধাপে গাজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানকার আনুমানিক ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেয়া হবে।

এই পরিকল্পনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা ও গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারও এর বিরোধিতা করছে। জিম্মিদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তারা। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এতে তাদের সংকল্প দুর্বল হবে না।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়,  ৭ অক্টোবর থেকে গাজা শহরে সামরিক অবরোধ শুরু করবে নেতানিয়াহুর সরকার। তার আগে দুই মাসের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পুরো গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

যুদ্ধের আগে গাজা শহরে প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। তবে ইসরায়েলি হামলার মুখে অনেক মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বা আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে বসবাস করছেন।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই পরিকল্পনা চরম দুর্দশায় থাকা মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেবে। জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে।

এদিকে খাদ্য সংগ্রহের সময়ও গাজার বাসিন্দাদের হত্যা করছে ইসরায়েলি সেনারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ২১ জন নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ বলছে, ২৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করে। সে সময় থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১ হাজার ৩৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন (জিএইচএফ) কেন্দ্রের কাছে এবং ৫১৪ জন নিহত হয়েছেন ত্রাণ বহরের রুটে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ