বজ্রপাত থেকে সুরক্ষিত থাকার ১০ উপায়
দক্ষিণ এশিয়ার বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে আমাদের দেশে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি থেকে বর্ষার শুরু পর্যন্ত, অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন (ফাল্গুন-আষাঢ়) মাসে কালবৈশাখীর সাথে বজ্রপাতের প্রকোপ বেড়ে যায়। এর মধ্যে মে ও জুন মাস বজ্রপাতের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোর কোনো উপায় না থাকলেও সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে আপনি প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।
এজন্য পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের সেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিরাপদ আশ্রয় নির্বাচন
ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু স্থানে থাকা যাবে না। সবচেয়ে নিরাপদ হলো কোনো পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া। তবে খোলা স্থানে থাকা অবস্থায় যাত্রী ছাউনি, তালগাছ বা বড় কোনো গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
২. ঘরের ভেতরে করণীয়
বজ্রপাতের সময় জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রেখে ঘরের মাঝখানে থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়া বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং বা পাইপ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। এমনকি এই সময়ে ল্যান্ড লাইন টেলিফোন ব্যবহারও বিপজ্জনক হতে পারে।
৩. বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে সাবধান
বজ্রপাতের সময় টিভি, ফ্রিজ বা কম্পিউটারের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও সেগুলো স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। ঝড়ের আভাস পেলে আগেই প্লাগ খুলে সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা নিরাপদ। অন্যথায় বৈদ্যুতিক তারের প্লাস্টিক গলে শর্ট-সার্কিট হওয়ার এবং তা থেকে ঘরে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।
৪. যানবাহনে থাকাকালীন সতর্কতা
গাড়ির ভেতরে থাকলে সম্ভব হলে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে গাড়িটি পার্ক করুন। গাড়ির ভেতরে থাকাকালীন কোনো ধাতব অংশ বা কাচে হাত দেবেন না।
৫. জলাশয় ও উন্মুক্ত মাঠ
পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই বজ্রপাতের সময় পুকুরে সাঁতার কাটা বা জলাবদ্ধ স্থানে থাকা পরিহার করুন। যদি ধানক্ষেত বা উন্মুক্ত মাঠে থাকেন, তবে দ্রুত নিচু হয়ে যান। মনে রাখবেন, কোনো খোলা স্থানে আপনিই যেন সর্বোচ্চ উঁচু বিন্দু না হন।
৬. দলবদ্ধভাবে না থাকা
খোলা স্থানে কয়েকজন মিলে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে সরে যান। এমনকি নিরাপত্তাহীন বাড়িতে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে অবস্থান করা শ্রেয়।
৭. বজ্রপাতের আগাম লক্ষণ বুঝুন
আপনার ওপরে বা আশপাশে বজ্রপাত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে শরীর শিরশির করতে পারে বা মাথার চুল খাড়া হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি অনুভব করলে দেরি না করে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসুন এবং চোখ বন্ধ রাখুন। তবে কোনোভাবেই মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
৮. জুতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা
বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা প্রাণঘাতী হতে পারে। এ সময় বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবারের জুতা ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
৯. গৃহ সুরক্ষা ও আর্থিং ব্যবস্থা
নিজের বাড়িকে নিরাপদ রাখতে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিয়ে সঠিক উপায়ে 'আর্থিং রড' স্থাপন করুন। ভুলভাবে স্থাপিত রড বিপদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
১০. আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে তাকে বৈদ্যুতিক শকে আহত ব্যক্তির মতো করেই চিকিৎসা দিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে