Views Bangladesh Logo

দেহে রক্ত বাড়ায় যে ১০ খাবার

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

শরীর সুস্থ রাখতে রক্তের ভূমিকা অপরিসীম। রক্ত শুধু শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় না, বরং পুষ্টি উপাদান, হরমোন ও রোগপ্রতিরোধী উপাদানও বহন করে। কিন্তু রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে দেখা দেয় রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)। তখন শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং কাজে অল্পতেই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে শিশু, কিশোরী, গর্ভবতী নারী এবং প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশেও অপুষ্টি ও আয়রনের ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন সি ও প্রোটিনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিন তৈরি ব্যাহত হয়। তাই শুধু ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি।

হিমোগ্লোবিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হিমোগ্লোবিন হলো লাল রক্তকণিকার একটি বিশেষ প্রোটিন, যার মূল উপাদান আয়রন। এটি ফুসফুস থেকে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করে আবার ফুসফুসে ফিরিয়ে আনে। ফলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ সচল রাখতে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেহে রক্ত বাড়াতে সহায়ক ১০টি খাবার

১. লাল মাংস ও কলিজা: গরু ও খাসির মাংস, বিশেষ করে কলিজা, আয়রনের অন্যতম সেরা উৎস। এতে থাকা 'হিম আয়রন' শরীর খুব সহজেই শোষণ করতে পারে। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

২. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: কমলা, মাল্টা, লেবু, আম, পেয়ারা, কিউই, স্ট্রবেরি, আনারস ও বেদানায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন খাবারের আয়রন শরীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে একটি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খাওয়া উপকারী।

৩. সামুদ্রিক মাছ ও শামুকজাতীয় খাদ্য: অয়েস্টার, ক্লাম, ঝিনুক, সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়িতে আয়রনের পাশাপাশি জিঙ্ক, ভিটামিন বি-১২ ও উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। এগুলো রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪. ডাল ও শুটিজাতীয় খাদ্য: ছোলা, মসুর ডাল, মুগ ডাল, সয়াবিন, রাজমা ও বিভিন্ন ধরনের বিনে প্রচুর আয়রন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে। নিরামিষভোজীদের জন্য এগুলো অত্যন্ত উপকারী।

৫. পূর্ণশস্য: লাল চাল, ওটস, গম, বার্লি ও ব্রাউন রাইস শরীরে আয়রনের চাহিদা পূরণে সহায়ক। একই সঙ্গে এগুলো দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায় এবং হজম ভালো রাখে।

৬. সবুজ শাক ও সবজি: পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক, পুঁইশাক, ব্রকলি, বিট, টমেটো ও কুমড়ায় রয়েছে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত শাকসবজি খেলে রক্ত তৈরির প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে।

৭. ডিম: ডিমে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন বি-১২, ফলিক অ্যাসিড ও উচ্চমানের প্রোটিন। প্রতিদিন একটি সেদ্ধ ডিম শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৮. শুকনো ফল: খেজুর, কিশমিশ, ডুমুর, অ্যাপ্রিকট (খুবানি) ও শুকনো বরই আয়রন, পটাশিয়াম ও আঁশের ভালো উৎস। এগুলো রক্তস্বল্পতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৯. বাদাম ও বীজ: কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, আখরোট, তিল, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে আয়রন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভিটামিন ই রয়েছে। এগুলো নিয়মিত খেলে শরীরের সার্বিক পুষ্টি বাড়ে।

১০. ডার্ক চকোলেট: উচ্চ কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেটে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে এতে ক্যালোরিও বেশি থাকে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম।

শুধু আয়রন খেলেই হবে না

অনেকেই মনে করেন শুধু আয়রনযুক্ত খাবার খেলেই রক্ত বেড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। শরীরে আয়রন শোষণের জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজন। আবার অতিরিক্ত চা বা কফি খাবারের সঙ্গে খেলে আয়রন শোষণ কমে যায়। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি পান করা ভালো।

যাদের বেশি সতর্ক থাকা দরকার

-গর্ভবতী নারী
-কিশোরী ও ঋতুস্রাব হয় এমন নারী
-বেড়ে ওঠা শিশু ও কিশোর-কিশোরী
-দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি
-দীর্ঘস্থায়ী কিডনি বা অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগী

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

খাবার খাওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় করা বা হিমোগ্লোবিন কম থাকার সমস্যা থেকে যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করতে হবে। কারণ সব রক্তস্বল্পতার কারণ শুধু আয়রনের ঘাটতি নয়; ভিটামিন বি-১২, ফলিক অ্যাসিডের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা রক্তক্ষরণও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ