শিশু–কিশোরদের ইনস্টাগ্রাম আসক্তি: আদালতে কঠিন জেরায় মার্ক জাকারবার্গ
শিশু–কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসক্ত করা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে কঠিন জেরার মুখে পড়েছেন মার্ক জাকারবার্গ।
বুধবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি তার প্রতিষ্ঠান মেটার সুরক্ষা নীতির পক্ষে ‘সাফাই’ গেয়ে বলেন, বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের সরাসরি ক্ষতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার দাবি, ব্যবহারকারীদের পর্দায় কাটানো সময় বাড়ানো এখন আর প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নয়; বরং সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে শুনানির এক পর্যায়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার মেটার কিছু অভ্যন্তরীণ নথি আদালতে উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখা যায়, অতীতে ব্যবহারকারীদের অ্যাপে বেশি সময় ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর জবাবে জাকারবার্গ বলেন, একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেটা কখনোই ব্যবহারকারীদের শোষণ করতে চায় না, বরং তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করে।
বিউটি ফিল্টারের প্রভাব ও বয়স যাচাইকরণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে হিসাব খোলা ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর (ছদ্মনাম কেজিএম) করা মামলার প্রেক্ষিতে এই শুনানি চলছে। তার অভিযোগ, শৈশব থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার তাকে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়। এই মামলায় মেটা ও ইউটিউব অভিযুক্ত থাকলেও টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাট আগেই আপসের মাধ্যমে মামলা থেকে সরে গেছে।
শিশু অধিকার কর্মীরা জাকারবার্গের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে সমালোচনা করেছেন। তবে মেটার আইনজীবীদের দাবি, বাদীর মানসিক সমস্যার পেছনে ব্যক্তিগত কারণই প্রধান। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হাজারো অনুরূপ মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে