Views Bangladesh Logo

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশে নারীস্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও নতুন অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, কারিগরি সহায়তা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদের কার্যকর সমন্বয়।

রোববার জার্মানির বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নারীস্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ও স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করতে হবে। তাঁর মতে, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ শুধু চিকিৎসাসেবায় ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের মধ্যে প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং নারীদের দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদেরও যেন প্রয়োজনীয় মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে দূরবর্তী শহরে যেতে না হয়, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর জীবন রক্ষার সুযোগ তাঁর আর্থিক সামর্থ্য বা রাজধানীতে যাতায়াতের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়, বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণের ওপর জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তিসহ মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। পাশাপাশি নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়াতে ইউএনএফপিএ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মধ্যে নারীস্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ