ডয়চে ভেলেকে সাক্ষাৎকার
সংবিধান সংশোধনের ইঙ্গিত প্রধান উপদেষ্টার
ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সাক্ষাৎকারে সংবিধান সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিষয়গুলোতে আমাদের নজর দিতে হবে এবং ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। ঐকমত্য ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। কারণ আমাদের শক্তি ঐকমত্য থেকে আসে।
এ সময় নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে ড. ইউনুস বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ এটি অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছেন' এবং 'অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল'। আপনি কোথা থেকে শুরু করবেন তা আপনি জানেন না। কারণ সব কিছুর ক্ষেত্রে পুনরায় শুরু করতে হবে।
সে সময় শেখ হাসিনার প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যাংক চ্যানেলে টাকা পাচার হয়েছে। চুক্তিগুলো জনগণের সুবিধার জন্য নয় বরং পরিবার বা পরিবারের সদস্যদের সুবিধার জন্য এবং এ রকম কিছু করার জন্য চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সুতরাং আপনি যে খারাপ বিষয়গুলো দেখেন যখন একটি সরকার ভুল পথে যায় বা অর্থনীতিতে ভয়ানক বিপর্যয় ঘটে ইত্যাদি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া ঢাকার আর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের অবশ্যই ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে, তা নিজের প্রয়োজনে। আমরা একে-অপরের ইতিহাস ভাগাভাগি করি। তাই বাংলাদেশের পালানোর কোনো পথ নেই।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া ঢাকার কাছে আর কোনো উপায় নেই।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে সশস্ত্র সংঘাতের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রাখাইনে সমস্যা শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রোহিঙ্গারা পালানোর উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যে কারণে তারা বাংলাদেশে আসছে। আমরা তাদেকের থামাতে পারি না, আমরা তাদেরকে ফেরত পাঠাতে পারি না। তাদেরকে ফেরত পাঠানোর অর্থ হলো আমরা তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছি। আমার মনে হয় না, কোনো দেশ এটা করতে পারে। অতএব যারা আসবেন, তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে