বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে পাইপ দিয়ে পিটুনি, এসিডে ঝলসে দিল যুবকের দুই হাত
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মানসিকভাবে অসুস্থ এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর দুই হাতে এসিডজাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত গোলাম রসুল শেখ (৩৮) নামে ওই যুবককে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গোলাম রসুলের বড় ভাই আব্দুল গফুর শেখ বাদী হয়ে নারী-পুরুষসহ চারজনের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন কলারোয়া পৌরসভার মির্জাপুর গ্রামের জিম হোসেন (২২), আফরোজা খাতুন মনি (৩৫), পপি খাতুন (৪২) ও সেকেন্দার আলী (৬৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোলাম রসুল মানসিকভাবে অসুস্থ। মাঝে মাঝে স্বাভাবিক থাকলেও বেশির ভাগ সময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। গত ১০ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে মির্জাপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় আসামিদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার গতিরোধ করা হয়। পরে তাকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এরপর আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে গোলাম রসুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে অন্যদের সহযোগিতায় জিম হোসেন তার দুই হাতে এসিডজাতীয় পদার্থ স্প্রে করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার দুই হাত দগ্ধ হয়।
গোলাম রসুলের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গোলাম রসুলকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করতেও দেখা যায়।
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার দাস বলেন, গোলাম রসুলের দুই হাত পোড়া এবং পায়ে ক্ষত ছিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে মামলার আসামি জিম হোসেন, আফরোজা খাতুন মনি, পপি খাতুন ও সেকেন্দার আলী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, গোলাম রসুল প্রায়ই তাদের বাড়িতে এসে ঝামেলা ও হামলা করেন। বিষয়টি আগে থানা-পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। তবে তারা তাকে মারধর করেননি বলে দাবি করেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, গত ১০ আগস্ট গোলাম রসুলের ভাই আব্দুল গফুর শেখ থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মতামত দিন