জুলাই আন্দোলনে ‘নিহত’ ব্যক্তি জীবিত আছেন সৌদিতে
রাজধানীতে জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের হওয়া কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তে গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোথাও ‘নিহত’ দাবি করা ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় সৌদি আরবে রয়েছেন, কোথাও মামলার বাদীর পরিচয়ই ভুয়া। আবার কিছু মামলায় গুলিতে নিহত বা আহত হওয়ার দাবিরও কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১৯টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। বাকি ১৬টি মামলায় তথ্যগত অসঙ্গতি, ভুয়া কাগজপত্র, ভুল পরিচয় এবং ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে বাস্তবতার অমিল পাওয়া গেছে।
একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই হাতিরঝিল এলাকায় পুলিশের গুলিতে মো. বাবু নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই ব্যক্তি আসলে জীবিত এবং বর্তমানে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তিনি নিজেও বলেন, তিনি মারা যাননি এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আগে তার সঙ্গে কথা বলেছে।
ওই মামলার বাদী হিসেবে যার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তদন্তে তিনিও দাবি করেন তিনি কখনো এমন মামলা করেননি। পুলিশ বলছে, অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করেছে। মামলার সঙ্গে সংযুক্ত মৃত্যুসনদও জাল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাতিরঝিল থানার তদন্ত কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা নিহত ব্যক্তি ও বাদী—দুজনের দাবিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্তে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে মামলাটি করেছে।
আরেকটি মামলায় দাবি করা হয়েছিল, পল্টনে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পারভেজ আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। কিন্তু তদন্তে ওই নামে কোনো নিহত ব্যক্তির অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বাদীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবিও প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পুরোনো কাটাছেঁড়ার দাগকে গুলির চিহ্ন হিসেবে দেখিয়ে মামলাটি করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি মামলায় ঘটনাস্থল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে থাকা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমা বা ব্যবসায়িক স্বার্থে নিরীহ মানুষকে আসামি করার অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার ভুয়া বাদীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রেও সেটাই হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তে যদি কোনো মামলা ভুয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মতামত দিন