সব ধরনের লড়াকু খেলা থেকে চিরবিদায় নিলেন ব্রক লেসনার
রেসলিং রিং থেকে স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ডাব্লিউডাব্লিউইর কিংবদন্তি তারকা ব্রক লেসনার। শুধু পেশাদার রেসলিং নয়, সব ধরনের লড়াকু ক্রীড়া থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিলেন ৪৯ বছর বয়সি এই তারকা। গত শনিবার মিনিয়াপোলিসে অনুষ্ঠিত সামারস্ল্যামে ওবা ফেমির বিপক্ষে ‘হেল ইন আ সেল’ ম্যাচটিই ছিল তার শেষ লড়াই।
মঙ্গলবার ‘দ্য প্যাট ম্যাকএফি শো’-তে এসে অবসরের কথা নিশ্চিত করেন ১০ বার ডাব্লিউডাব্লিউই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপজয়ী এই তারকা। লেসনার বলেন, চলতি বছরের শুরুতে রেসলেমেনিয়ায় রিংয়ের মধ্যেই বুট ও গ্লাভস খুলে রাখার সময় তার মনে হয়েছিল, ক্যারিয়ারের ইতি টানার সময় এসে গেছে। তবে দর্শকদের সামনে শেষবার নামার তাগিদ থেকেই তিনি ফিরে আসেন এবং নিজের শহর মিনেসোটার এই আয়োজনে অংশ নেন।
অবসর প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে লেসনার বলেন, শনিবারের ম্যাচটি তার জন্য ছিল ভীষণ আবেগের এক মুহূর্ত। রেসলেমেনিয়ায় ফেমির হাতে হারের পর তার মনে হয়েছিল, আর হয়তো ফেরা হবে না। কিন্তু রেসলিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে আবার টেনে এনেছিল রিংয়ে। তবে শনিবারের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন—এখনই সঠিক সময়, আর কোনো প্রতিযোগিতায় ফেরার ইচ্ছা তার নেই।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী লেসনার ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার হয়ে এনসিএএ ডিভিশন-১ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে প্রথম আলোচনায় আসেন। দুই বছর পর ডাব্লিউডাব্লিউইতে অভিষেক ম্যাচেই বিখ্যাত ‘এফ-ফাইভ’ মুভে ডোয়েন ‘দ্য রক’ জনসনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বখেতাব জেতেন তিনি। এরপর মোট ১০টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, দুটি রয়্যাল রাম্বল, একটি কিং অব দ্য রিং ও একটি মানি ইন দ্য ব্যাংক শিরোপা জেতেন লেসনার। ২০১৪ সালে রেসলেমেনিয়ায় দ্য আন্ডারটেকারের ২১ ম্যাচের অপরাজেয় রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। রিংয়ের বাইরেও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন এই তারকা—২০০৪ সালে এনএফএলের মিনেসোটা ভাইকিংসের প্রাক-মৌসুম দলে জায়গা পান, পরে ২০০৭ সালে ইউএফসিতে যোগ দিয়ে মাত্র চতুর্থ লড়াইয়েই ২০০৮ সালে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতেন।
ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লেসনার। তিনি বলেন, ‘আমি দক্ষিণ ডাকোটার একেবারে সাধারণ এক খামারের ছেলে ছিলাম। বড় স্বপ্ন, কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য জেদই আমাকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি, তার জন্য আমি ঈশ্বর ও পাশে থাকা মানুষদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ এভাবেই পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ও সফল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
মতামত দিন