ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামে ভুল ছবি, সমালোচনার পর বদল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে ছয় সাহিত্যিকের নামের পাশে ভুল ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রদর্শিত ছবিগুলোর বেশিরভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাহিত্যিকদের প্রকৃত চেহারার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষাঙ্গনে সমালোচনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করেছে ডাকসু কর্তৃপক্ষ।
যাচাই করে দেখা গেছে, পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং কবি আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাদের প্রকৃত ছবির সঙ্গে মেলে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজলের নামের পাশে থাকা ছবিটিও তার নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তালিকায় থাকা ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে অবশ্য তার চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর গণমাধ্যমকে জানান, জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাদের কারও নয়। আবুল ফজলের নামের পাশে থাকা ছবিটিও তার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, তালিকায় কেবল মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে তার চেহারার কিছুটা মিল রয়েছে।
অধ্যাপক তারিক মনজুরের ধারণা, প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। তিনি ছবির পাশাপাশি সাহিত্যিকদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, ‘খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, সেটি অনেকটাই খণ্ডিত। এত বড় একটি তালিকার সবাইকে একটি দেয়ালে স্থান দেওয়া সম্ভব না হলেও নির্দিষ্ট কয়েকজনকে বেছে নিয়ে ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।
ভুল ও বিভ্রান্তিকর ছবি ব্যবহারের বিষয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে নকশা তৈরির সময় ছবির দৃশ্যমান মান বা গুণগত মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা পরিবর্তিত হয়ে যায়।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা গণমাধ্যমকে বলেন, ডিজাইনারের কাছে ছবি দেওয়ার পর গুণগত মান বাড়ানোর সময় দুই-তিনটি ছবি একই ধরনের হয়ে যায়। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন পরিবর্তন দেখা যায়, ছবিগুলোতেও তেমনটি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে ছবিগুলো সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তা অস্বীকার করেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, সব ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছিল। ছবির মান উন্নত করার সময়ই এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, একসঙ্গে অনেক ছবি থাকায় বিষয়টি প্রথমে নজরে আসেনি। পরে তিনি বিষয়টি দেখতে পেয়ে ডিজাইনারকে জানালে নতুন ছবি পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার নতুন ছবিগুলো ছাপিয়ে সংগ্রহশালায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
মতামত দিন