বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস আজ
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো আজ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, “আমরাই করবো ম্যালেরিয়া নির্মূল; নব উদ্যমে, নব বিনিয়োগে, নব চিন্তায়।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৪১ জন এবং এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯৯ জন, যেখানে মৃত্যু হয় ছয়জনের। তাদের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিক।
বর্তমানে দেশের ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হলো-
বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় ১৬ হাজার ৬৭৭ জন, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল ২০১৪ সালে, যখন ৫৭ হাজার ৪৮০ জন আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ম্যালেরিয়া ও এডিসবাহিত রোগ) ডা. শ্যামল কুমার দাস বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ– বান্দরবান ও রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। পার্বত্য তিন জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অন্যতম চ্যালেঞ্জ সীমান্ত। এ ছাড়া এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে জুম চাষি ও বনজীবীদের শনাক্ত করা কঠিন। তারা সাধারণ মানুষের মতো বাড়িতে থাকেন না। এক মাস, ১৫ দিনের জন্য কাঠ কাটতে জঙ্গলে চলে যান। এগুলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তাদের সঙ্গে যোগাযোগও কঠিন। তবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ওষুধ ও টিকা দেয়া হচ্ছে।
ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ ও অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, ম্যালেরিয়ার পরজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রধান ওষুধগুলো এখনো বাংলাদেশে কার্যকর। তবে অনেক দেশে এসব ওষুধ কার্যকারিতা হারাচ্ছে, তাই বিকল্প ওষুধ সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ম্যালেরিয়া নির্মূল সম্ভব।
এদিকে আফ্রিকায় শিশুদের জন্য কার্যকর দুটি টিকা সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশেও লামা ও আলিকদম এলাকায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১০০ গ্রামে চার ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি টিকা নিয়ে গবেষণাও চলমান রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে