জলবায়ু সংকট এড়াতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে সৎ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
আসন্ন সংকট এড়াতে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির
দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সততা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা আশা করি বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের
বিষয়ে সৎ থাকবে এবং আসন্ন সংকট এড়াতে তাদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব করবে।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে 'ডেলিভারিং ক্লাইমেট জাস্টিস: অ্যাক্সিলারেটিং
অ্যাম্বিশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন অন অ্যাডাপ্টেশন অ্যান্ড ওয়ার্নিংস ফর অল' শীর্ষক
জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের উচ্চ পর্যায়ের থিমেটিক সেশনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু ন্যায় বিচারের প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশ এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে
যেতে যেকোনো গঠনমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে একাত্ম হতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশকে সাধারণত
বিশ্বনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে বেশ কয়েকটি প্রকৃতি-ভিত্তিক, কাঠামোগত এবং প্রযুক্তিগত
সমাধান রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য অংশে একইভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, অভিযোজন তহবিলকে প্রত্যাশা পূরণ
করতে হবে। এ জন্য তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের
প্রত্যাশিত প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এর জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
সরকার প্রধান বলেন, আমরা অ্যাডাপটেশন পাইপলাইন অ্যাকসেলারেটর অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত
সহায়তায় একটি কার্যকর মডেল দেখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আগাম
সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছে। তিনি
বলেন, ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে যে লাখ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল তার তুলনায়
সরকার প্রাণহানির সংখ্যা এক অঙ্কে নামিয়ে এনেছে। ৬৫ হাজার উপকূলীয় মানুষের সমন্বয়ে
আমাদের বিশ্বের বৃহত্তম কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার
জন্য আমাদের সর্বশেষ জাতীয় পরিকল্পনা একটি সমন্বিত বহু-বিপজ্জনক আগাম সতর্কতা পদ্ধতি
গ্রহণ করেছে।
শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নিয়মিত
আপডেট দিতে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী ভূমিকম্প মডেলিং নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের উপস্থিতিতে মহড়া
পরিচালনার জন্য জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে অভিযোজন ও আগাম সতর্কীকরণে
বিনিয়োগ নিখুঁত অর্থবহ।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি আমাদের উন্নয়ন অংশীদাররা জলবায়ু
ন্যায় বিচার প্রদানের জন্য এই সুযোগগুলো কাজে লাগাবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে