বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, খাদ্য নিরাপত্তায় উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব
কৃষিতে উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেইট টুডে, নারিশ টুমরো’, যার বাংলা অর্থ ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, প্রচলিত জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক উদ্ভাবনী সমাধানের সমন্বয় ঘটানো গেলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তি ও নতুন ধারণার ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।
দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়, এফএও এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) মিলনায়তনে একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টির উন্নয়ন এবং কৃষি খাতে উদ্ভাবন ছড়িয়ে দিতে বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, কৃষক প্রতিনিধি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
দেশে খাদ্যপ্রাপ্তি ও ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এফএওর সেপ্টেম্বরের কান্ট্রি ব্রিফে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে।
মূল্যায়নে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বাড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কিছু এলাকায় বন্যার কারণে জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার শিকার হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না। এসব পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পুষ্টি সংকটের ব্যাপকতা তুলে ধরে।
খাদ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারকে সবার নাগালের মধ্যে আনতে বৃহত্তর বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মতামত দিন