২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ: ১২ ভেন্যুর সঙ্গে উন্মোচিত হলো লোগোও
দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও আফ্রিকা মহাদেশে বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০২৭ সালের এই আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জোহানেসবার্গে এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিন দেশের মোট ১২টি স্টেডিয়ামকে ভেন্যু হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের লোগো ও ব্র্যান্ড পরিচিতিও উন্মোচন করা হয়েছে।
আসরটির ব্র্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ‘থ্রি নেশনস, ওয়ান হার্টবিট’। এর ভিত্তি আফ্রিকার ‘উবুন্টু’ দর্শন, যার সহজ অর্থ—‘আমি আছি, কারণ আমরা আছি’। মানবিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের এই ভাবনা আইসিসির বৃহত্তর ‘মেক দ্য সার্কেল বিগার’ ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত। আয়োজকরা জানান, তিন দেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, ২৯টি সরকারি স্বীকৃত ভাষা এবং নানা পরিচয়ের মানুষকে ক্রিকেটের সুতোয় বাঁধার ভাবনা থেকেই এই পরিচিতি।
লোগোর নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী তারের বাটির (ওয়্যার বোল) আদল। এর রঙের বিন্যাসের নামকরণও করা হয়েছে অঞ্চলটির নামে—জিম্বাবুয়ে চিলি, আফ্রিকান রুট, ফিনবস পপ, নামিব ডিউন, হারারে ডন এবং টু ওশানস।
দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি ভেন্যু হলো ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম (জোহানেসবার্গ), সেঞ্চুরিয়ন (শোয়ানে), নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড (কেপ টাউন), কিংসমিড ক্রিকেট গ্রাউন্ড (ডারবান), সেন্ট জর্জেস পার্ক (গেবেখা), মানগাউং ওভাল (ব্লুমফন্টেইন), বোল্যান্ড পার্ক (পার্ল) ও বাফেলো পার্ক (কুগোমপো সিটি, যা আগে ইস্ট লন্ডন নামে পরিচিত ছিল)। জিম্বাবুয়ের তিনটি ভেন্যু হলো হারারে স্পোর্টস ক্লাব (হারারে), কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব (বুলাওয়েও) এবং নতুন নির্মিত ফালে মোসি-ওয়া-টুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম (ভিক্টোরিয়া ফলস)। নামিবিয়ার ম্যাচগুলো হবে রাজধানী উইন্ডহুকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
নামিবিয়ার জন্য এটি বিশেষ মুহূর্ত। জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে এটিই তাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। যদিও চলতি বছরের শুরুতে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে যৌথভাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে দেশটি।
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২০২৭ আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পথে এটি একটি রোমাঞ্চকর মাইলফলক। স্বাগতিক শহর ও টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এমন এক যাত্রার সূচনা হলো, যা বিশ্বজুড়ে ভক্তদের একত্র করবে এবং আমাদের খেলার সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আয়োজনগুলোর একটিকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি করবে।’ ২৪ বছর পর আসরটি আফ্রিকায় ফেরার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া একটি স্মরণীয় আসর উপহার দেবে, যেখানে ফুটে উঠবে এই অঞ্চলের উষ্ণতা, আবেগ ও বৈচিত্র্য।’
আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, দুই দশকের বেশি সময় পর ক্রিকেটের শীর্ষ আসর আফ্রিকায় ফিরছে এবং এই টুর্নামেন্ট অসাধারণ মানুষ, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও খেলার প্রতি গভীর ভালোবাসায় সমৃদ্ধ একটি মহাদেশকে উদ্যাপন করবে।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট আইকন গ্রায়েম স্মিথ, মাখায়া এনটিনি, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা ও কাগিসো রাবাদা। এ ছাড়া ছিলেন জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং নামিবিয়ার রুডলফ জানসেন ভ্যান ভুরেন।
সর্বশেষ ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া মিলে অষ্টম বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। ২০২৭ আসরে অংশ নেবে বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি দল। তবে উদ্বোধনী ম্যাচ, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কোন ভেন্যুতে হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। পূর্ণাঙ্গ সূচি ও ম্যাচভিত্তিক ভেন্যু পরে প্রকাশ করা হবে। টিকিট বিক্রিসহ অন্যান্য হালনাগাদ তথ্য পেতে আগ্রহীরা এখন থেকেই আইসিসির আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারছেন।
মতামত দিন