বিশ্বকাপের জোয়ারে ৫ মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ল ৫২ লাখ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধুম পড়েছে। লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী মোবাইলে খেলা দেখার কারণে ডেটার ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি ইন্টারনেট ও মোবাইল গ্রাহক সংখ্যাতেও বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বকাপের পাশাপাশি সিম কার্ডের ওপর থেকে ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ঈদের ছুটির মতো বিষয়গুলো এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ, যা মে মাস শেষে ৫২ লাখ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৪১ লাখে। একই সময়ে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যাও ২৮ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ কোটি ৫৮ লাখ থেকে ১৮ কোটি ৮৬ লাখে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন বাংলাদেশে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ট্রাফিক রেকর্ড করা হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকায় ভক্তরা কোনো বাধা ছাড়াই মোবাইল ডিভাইসে খেলা উপভোগ করতে পেরেছেন।
বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের প্রায় ৮৯ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। মে মাস পর্যন্ত রেকর্ড করা ১৩ কোটি ৪১ লাখ ব্যবহারকারীর মধ্যে ১১ কোটি ৯১ লাখই মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, আইএসপি ও পিএসটিএন অপারেটরদের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন ১ কোটি ৪৯ লাখ গ্রাহক।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ১১ কোটি ৪২ লাখ, যা মে মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯১ লাখে। অর্থাৎ, এই পাঁচ মাসে কেবল মোবাইল ইন্টারনেটেই নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৪৯ লাখ। বিপরীতে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারির ১ কোটি ৪৭ লাখ থেকে সামান্য বেড়ে মে মাসে ১ কোটি ৪৯ লাখে এসে অপরিবর্তিত রয়েছে।
গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। মে মাস শেষে অপারেটরটির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবি আজিয়াটার গ্রাহক ৫ কোটি ৮২ লাখ এবং বাংলালিংকের গ্রাহক ৩ কোটি ৭৭ লাখ। তবে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ৬৮.৩ লাখ থেকে সামান্য কমে মে মাসে ৬৮.১ লাখে নেমে এসেছে।
রবির করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স প্রধান শাহেদ আলম বলেন, ‘চলতি ফিফা বিশ্বকাপ ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি সিম ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করায় গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করছি জুন ও পরবর্তী মাসগুলোতে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হবে।’
উল্লেখ্য, বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিম কার্ড দিয়ে বিগত ৯০ দিনে অন্তত একটি ভয়েস কল, এসএমএস বা ইন্টারনেট সেশন পরিচালনা করা হলে সেটিকে সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়।
মতামত দিন