Views Bangladesh Logo

প্রবাসফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের ১০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা

বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানে সহায়তা দিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সরকারের রেইজ প্রকল্পের আওতায় এ খাতে চার বছরের জন্য ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যেও রেইজ প্রকল্পে দেশে ফেরা কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত ‘অধিকারভিত্তিক শ্রম অভিবাসন সুশাসন ও সমন্বিত অ্যাডভোকেসি’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মাহবুব উল করিম। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে জানানো হয়, বিদেশফেরত বৈধ কর্মীদের সুরক্ষা ও সরকারি বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আনতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রয়োজন, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ ফেরত আসা অভিবাসী কর্মী নিবন্ধিত হয়ে পুনরেকত্রীকরণ ও ব্যবসা শুরুসহ বিভিন্ন সেবা পেয়েছেন।

বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা ধরনের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মাহবুব উল করিম। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতার অভাবে অনেক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা বাতিল হওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। এ অবস্থায় বিদেশে যাওয়ার আগেই কর্মীদের যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিলেই হবে না। অভিবাসনের প্রতিটি ধাপে কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের জন্য পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন তারা।

এ লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা সংগঠন এবং অভিবাসী কর্মীদের প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। জাতীয় সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, শিল্প ও নিয়োগকর্তা সংগঠন, অভিবাসী কর্মীদের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ