ট্রল-সমালোচনায় পিছু হটব না, শিক্ষা সংস্কারে অটল সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
ট্রল-সমালোচনা বা অপপ্রচার কোনোভাবেই সরকারকে শিক্ষা সংস্কারের পথ থেকে সরাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং এ দায়িত্ব পালনে কোনো চাপ বা সমালোচনায় বিচ্যুত হবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাকে নিয়ে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করেছেন, তাদের মধ্যে প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের তিনি দেখেননি। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ কিংবা ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে অযথা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরীক্ষা আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও তিনি শিক্ষার্থীদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের একটি অংশকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করুক, যে যত অপবাদই দিক, সঠিক দায়িত্ব থেকে আমাদের বিচ্যুত করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা শুধু গ্রহণ করলেই হবে না, এর মানোন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষা খাতে সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যায়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবনে কার্যকর নয়—এমন শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়া এ অঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি রচনা করবে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার ও কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শন করেন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের ৮০ শিক্ষার্থীর হাতে আমগাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগে পাঠদান চালুর অনুমোদন পায়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো।
মতামত দিন