নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অংশীদার করতে হবে।
তিনি বলেন, নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, আজ যে মাছগুলো নদীতে অবমুক্ত করা হলো, এগুলো বড় হয়ে ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষই ভোগ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ। জনগণ বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে বিজয়ী করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির উদ্দেশ্য এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। এই রাজনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা খাল খননের কর্মসূচি শুরুর কথা বলেছিলেন। সরকার গঠনের পর সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন এবং খালের আশপাশের এলাকার মানুষও পানির সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, খালের পানি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতেও এসব জলাশয় কাজে লাগাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এতে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি মাছ আহরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।
নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় নারীদের শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণকে ঘিরে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন