Views Bangladesh Logo

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী ফোরামগুলোর সদস্যরা। তাদের মতে, আইন পাসের পর বিধিমালা প্রণয়নে দেরি হলে আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নারী মৈত্রীর আয়োজনে ‘সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬: প্রত্যাশা ও অর্জন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

বক্তারা সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’ পাস করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আইনটির বিধানগুলো কার্যকর করতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে ভারতে এ হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।

টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে সভায় বলা হয়, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান। এ ছাড়া আরও কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি মিলিয়ে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়। অর্থাৎ তামাক থেকে পাওয়া রাজস্বের তুলনায় এর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি।

বক্তারা বলেন, গত ১০ এপ্রিল ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’ পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আইন পাসের পর এর বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা প্রণয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

নেওয়াজ হালিমা আরলি এমপি বলেন, জনস্বাস্থ্যকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ বিষয়ে নীতিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, বিধিমালা প্রণয়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফরিদা ইয়াসমিন এমপি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য চুক্তি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলে স্বাক্ষর করেছে। তবে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে ওই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনও পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

তার মতে, তামাকশিল্পের প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য নীতি সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের উপাদান ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা এবং তামাক ছাড়তে সহায়তার মতো বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিধিমালা প্রণয়নের সময় আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হেলেন জেরিন খান এমপি বলেন, সংশোধিত আইনেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের নিয়ন্ত্রণ এবং খুচরা শলাকা ও খোলা তামাকজাত পণ্য বিক্রির মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

তিনি বলেন, এসব পণ্য বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তামাক ও নিকোটিন ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খুচরা শলাকা বিক্রির কারণে তরুণদের কাছে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হচ্ছে। তাই বিধিমালা প্রণয়নের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সেলিনা সুলতানা এমপি বলেন, সংশোধিত আইনে জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত ধূমপান এলাকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলো যাতে বিভিন্ন কৌশলে এই সুযোগের অপব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বিধিমালায় স্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম, তামাকবিরোধী নারী সাংবাদিক ফোরাম ও তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারাও দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণের কাঠামো আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী করার দাবি জানান।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ