Views Bangladesh Logo

লঞ্চে প্রকাশ্যে নারীদের পেটানো জিহাদ আটক, মুন্সিগঞ্জ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে ‘এমভি ক্যাপ্টেন’ লঞ্চে পিকনিকে আসা তরুণীদের প্রকাশ্যে মারধরকারী নেহাল আহমেদ জিহাদকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শনিবার (১০ মে) দুপুরে আটক জিহাদ সদর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুরের বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, লঞ্চটিতে মারধরের শিকার ওই দুই তরুণীর বয়স ১৯-২০ বছর হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, শুক্রবার (৯ মে) মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় জিহাদকে থানায় আসতে বলেছিলাম। থানায় এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি’।

ওসি বলেন, ‘ভুক্তভোগী এক তরুণীকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি আসবেন না বলে জানিয়েছেন। তার মোবাইল ফোনও এখন বন্ধ দেখাচ্ছে। নৌ-পুলিশ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কেউ কোনো ব্যবস্থা না নিলে পুলিশই মামলা করবে’।

লঞ্চঘাটে যাত্রাবিরতি দেয়া লঞ্চে দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে। এ সময় লঞ্চটিতে ভাংচুর এবং অন্য যাত্রীদের মারধর টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন লুটও করা হয়। ওই দুই তরুণীসহ অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা রঙের পোশাক পরা ওই দুই তরুণীকে লঞ্চের একেবারে সামনের অংশে উঠিয়ে কোমরের বেল্ট দিয়ে বেপরোয়াভাবে পেটাচ্ছেন জিহাদ। ৫০ থেকে ৬০ জন বিভিন্ন বয়সী পুরুষ সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ এবং উল্লাস প্রকাশ ও বিভিন্ন নানা ধরনের শ্লোগান দিচ্ছেন।

অন্যদিকে থেমে থাকা লঞ্চের দ্বিতীয়তলায় উঠে গণহারে পুরুষ যাত্রীদের পেটাচ্ছেন ১০ থেকে ১৫ জনের সংঘবদ্ধ দল। লঞ্চের কেবিনগুলোতে তল্লাশি এবং দরজা ভাঙার চেষ্টা করছেন তারা।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, রাত আটটার দিকে লঞ্চটি ঘাটে নোঙর করে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ভাঙচুরের খবর পেয়ে সেখানে যান তারা। পরে লঞ্চের ভেতরে ঢুকে বেশ কিছু দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ এবং মারধরের শিকার তরুণীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনাস্থলে থাকা একজন সাংবাদিক জানান, লঞ্চটি ঢাকা-লালমোহন রুটের। প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার বেশ কয়েকটি কেবিনে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ-যুবক ও দুই তরুণী ছিলেন। তারা ওই লঞ্চের কেবিন ভাড়া নিয়ে দিনভর পিকনিক শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা সবাই ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, সন্ধ্যার নাস্তা কিনতে ৮-১০ জন যাত্রী লঞ্চ থেকে পল্টুনে নামেন। সেখানে থাকা স্থানীয়রা মাদকসেবী সন্দেহ করে তাদের পিছু নিয়ে লঞ্চে উঠতে গেলে লঞ্চের ম্যানেজার মো. শফিক বাঁধা দেন। এতে উত্তেজিত লোকজন লঞ্চে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও যাত্রীদের মারপিট করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ