Views Bangladesh Logo

তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় নারী এমপিদের

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচাতে তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারী সংসদ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘তামাকবিরোধী নারী এমপিদের ফোরাম’-এর এক সভায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারপার্সন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি — ৩৫.৩ শতাংশ, যা ভারতে ২৮.৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯.১ শতাংশ। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস, ২০১৭)-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্যমতে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং পঙ্গুত্ববরণ করে আরও কয়েক লাখ মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা; পক্ষান্তরে তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্যক্ষতি ও পরিবেশের ক্ষতি ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার ও ক্ষয়ক্ষতি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Framework Convention on Tobacco Control (WHO FCTC)-এ স্বাক্ষর করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়। এ বিষয়ে সভায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধি তামাক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর ও পরীক্ষিত উপায়। বিশ্বের বহু দেশ এই উপায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন করেছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও সভায় জোর দাবি জানানো হয়।
সেলিমা রহমান এমপি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম একটি বিষয় ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। তারই প্রতিফলনস্বরূপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়। তবে আমরা মনে করি, শুধু আইন পাস করাই যথেষ্ট নয়; তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান যুদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই যুদ্ধে আমাদের জয় হবেই।’

তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, ‘হার্ম রিডাকশন (Harm Reduction)-এর নামে তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ নানা নামে নতুন নিকোটিন পণ্য বাজারজাত করছে, যা তামাক ব্যবসায়ী চক্রের এক অভিনব কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কিশোর-তরুণদের বিভ্রান্ত করে নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এই বিষয়টি প্রতিফলিত না হলেও আমাদের কাজ হবে প্রতিনিয়ত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা। কারণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কোনো তামাকজাত পণ্যেই ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।’

তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরামের সহ-আহ্বায়ক তনুশ্রী হালদার বলেন, ‘তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নারী সংসদ সদস্যরা যেহেতু জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাই তাদের সঙ্গে মিলে আমরা সবাই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সভায় ‘তামাকবিরোধী নারী এমপিদের ফোরাম’-এর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশেদা বেগম হীরা, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমীন, নিলোফার চৌধুরী মনি, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, ফাহমিদা হক, ফেরদৌসী আহমেদ, জহরত আদিব চৌধুরী, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা ও রেজেকা সুলতানা।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি, নারী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লাবিন রহমান এবং তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের সদস্য তাসফিয়া নওরীন, রাইসুল ইসলাম ও আশরাফিয়া জান্নাত। সভায় উপস্থিত সকলে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ