সংসদে কমেছে নারী নেতৃত্ব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে মাত্র সাতজনে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার মোট ১ হাজার ৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ৮১ জন, অর্থাৎ ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮ নারী প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬ জনের মধ্যে ১৯ জন বিজয়ী হন। আরও আগে ২০১৪ সালের দশম সংসদে ২৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ও বিজয়ের হার—দুটিই কমেছে। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সাত নারী এমপির মধ্যে ছয়জন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং একজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
নির্বাচিত নারী এমপিরা হলেন—মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহম্মেদ, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা এবং নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল।
আফরোজা খান রিতা মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ পান ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট এবং ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো পান ১ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ ভোট।
সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি। নাটোর-1 আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল পান ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত নারী এমপির সংখ্যা ছিল ৫ থেকে ১৯-এর মধ্যে। সেই তুলনায় এবারের সাতজন নারী প্রতিনিধিত্ব নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে