দেশের নারী-শিশুরা কোথাও এখন পুরোপুরি নিরাপদ নয়: মহিলা পরিষদ
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) দেশে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও শিশু, যাদের মধ্যে ২৯২ জন ধর্ষণের শিকার নারী ও কন্যাশিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় দেশের কোথাও নারী ও শিশুরা আর নিরাপদ নয়। তবে সংগঠনটির নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের ঘরবন্দী করে রাখা যাবে না, নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবেই।
রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ডাকে দেশের সব জেলা শাখাতেও একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এই কর্মসূচি।
সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তা মূলত ১৪টি পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া চিত্র। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে নারীর নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার কতটা নিশ্চিত?’ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা ও বৈষম্য দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই কমছে না। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকার নয়, পরিবার, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজসহ প্রতিটি নাগরিককেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর। কেন্দ্রীয় কমিটির লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক দীপ্তি শিকদারও বক্তব্য দেন, আর পুরো কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক জনা গোস্বামী।
বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা গোটা সমাজকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে—দেশ যেন পরিণত হয়েছে ধর্ষণ ও নির্যাতনের এক অভয়ারণ্যে। স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় থেকে শুরু করে আজ অবধি প্রতিটি সহিংস ঘটনায় নারীকেই বানানো হয় প্রধান লক্ষ্যবস্তু, আর এর পেছনে কাজ করে সমাজে বদ্ধমূল পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, যা নারীকে পূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতিই দেয় না বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
সবশেষে বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশুহত্যা রুখতে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবি জানান।
মতামত দিন