শরীয়তপুরে চুরির অপবাদে নারীকে নির্যাতন
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ তুলে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার দুই লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই নারীকে সন্দেহ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাকে বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। নির্যাতনের সময় তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও মারধর অব্যাহত থাকে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি ওই নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন, আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করছেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে তুলে আবার মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী বলেন, তিনি কোনো চুরি করেননি। তাকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, তাদের পরিবারের আর্থিক কোনো সংকট নেই এবং তার মা নির্দোষ। অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেত, কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে মারধর করা হয়েছে। তার মা স্ট্রোকের রোগী বলেও জানান তিনি।
মেয়ে মেহেরুনও অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন মিলে লাঠি দিয়ে তার মাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ভিডিওটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতনের সুযোগ নেই। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মতামত দিন