অবশেষে মিলল পরিচয়, নরসিংদী রেলস্টেশনে নিহত ‘ববি বেগম’ বগুড়ার ওয়াহিদা বেগম
নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত বাকপ্রতিবন্ধী নারী ‘ববি বেগম’-এর প্রকৃত পরিচয় অবশেষে মিলেছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ববি বেগম’ নামে পরিচিত থাকলেও, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন তার আসল নাম ওয়াহিদা বেগম। দীর্ঘ ২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ওয়াহিদার দুই স্বজন মেথিকান্দা রেলস্টেশনে এসে তার কবর জিয়ারত করেন। পরে তারা তার পরিচয় নিশ্চিত করেন।
ওয়াহিদা বেগমের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ঘোন সাগাতিয়া গ্রামে। তিনি প্রয়াত রহিম উদ্দিন প্রামাণিক ও আনিসা বিবির বড় মেয়ে। তার পরিচয় গাবতলী মডেল থানা ও ভৈরব রেলওয়ে থানার কর্মকর্তাদের কাছেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিব হোসেন জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর পারিবারিক কলহের জেরে ওয়াহিদা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর আর কখনো পরিবারের কাছে ফিরে আসেননি। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য, এমনকি তার বাবা-মাও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন।
ওয়াহিদার প্রতিবেশী এনামুল হক জানান, দরিদ্র পরিবারটি অনেক আগেই ধরে নিয়েছিল তিনি মারা গেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেলস্টেশনে হামলার শিকার ওই নারীর ছবি এবং মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিনতে পারেন।
গত ৪ জুলাই দিবাগত রাত ২টার দিকে মেথিকান্দা রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত একটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ওয়াহিদার ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে জমানো টাকা লুট করতে তারা তার মুখ, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুলাই রাতে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৮ জুলাই রাত ১টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। প্রথমে স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ায় ওয়াহিদাকে অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ হিসেবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে প্রশাসন, রেলওয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে স্টেশনসংলগ্ন সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় মেথিকান্দা স্টেশনমাস্টারের করা মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন।
মতামত দিন