চর দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪০, মেঘনা নদী থেকে নারীর টেঁটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
চর দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে কোহিনুর বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর মেঘনা নদী থেকে তার টেঁটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই টেঁটাবিদ্ধ।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেঘনা উপজেলার চরবিনতপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। আহতদের তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত কোহিনুর বেগম মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলায় গেলে চরবিনতপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। পরে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, সংঘর্ষে তিতাস উপজেলার ১৫ জন এবং মেঘনা উপজেলার ২৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন চরবিনতপুরের স্বপন মিয়া (২৭), সাগর মিয়া (৪০) এবং চরভাটেরার জসিম উদ্দিন (৩৫)।
সংঘর্ষ শেষে আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে সেটি উদ্ধার করে কোহিনুর বেগমের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
চরবিনতপুর গ্রামের আলী আকবর অভিযোগ করেন, শাহ আলম মেম্বারের নেতৃত্বে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন তাদের গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও গবাদিপশু নিয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে শাহ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মেঘনা নদীর দুই পাড়ের চর দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই তিতাস ও মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনও একই বিরোধে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মতামত দিন