হাত-পা বেঁধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, বাথরুমে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় তানিয়া ইসলাম (২২) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মো. শাহ পরানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিষমডাঙ্গা গ্রামে তানিয়ার বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় তানিয়ার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘরের বাথরুমজুড়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা সোরহাব আলী এ ঘটনায় জামাতা শাহ পরানকে আসামি করে তাড়াশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দা শাহ পরানের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। তবে ছেলের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দম্পতি তানিয়ার বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
স্বজনদের দাবি, সোমবার রাতে একসঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান তারা। পরে রাতের কোনো এক সময় শাহ পরান ঘরের ভেতরের বাথরুমে নিয়ে তানিয়ার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
মতামত দিন