Views Bangladesh Logo

সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য জানতে চেয়ে হামলার শিকার নারী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে এক নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে। কানিজা আফরোজ নামে ওই নারীর মাথায় আঘাত লেগেছে। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা।

কানিজার অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে জানতে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে যান। সেখানে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও তার ছেলেকে গালাগাল করেন। পরে তারা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন।

কানিজা বলেন, তিনি আগে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে থাকা ব্যক্তিরা তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

তিনি বলেন, আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কিনা। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি।

কানিজার দাবি, সরকারি হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারা রোগী ও স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কানিজা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হাসান। তিনি বলেন, হাসপাতালে দায়িত্বশীল কোনো কর্মচারী সেখানে না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

তবে এ ঘটনায় পুলিশের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকরামুল হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ