Views Bangladesh Logo

মবের পিটুনিতে নিহত রূপলালের স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার হুমকি, থানায় অভিযোগ

রংপুরের তারাগঞ্জে শ্বশুর ও জামাতাকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা তুলে নিতে নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ও সন্তানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভারতী রানী জানান, গত বছরের ৯ আগস্ট তার স্বামী রূপলাল দাস ও জামাতা প্রদীপ লালকে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১০ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

তার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের একজন রুবেল পাইকার (৩০) জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে তাকে ও তার ছেলেকে দেখে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। একইভাবে আরেক আসামি সোহাগও বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন।

ভারতী রানী বলেন, মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আসামিরা তাকে গালিগালাজ করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ছেলে দোকান করে সংসার চালায়, সেও ভয়ে আছে। নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।’

নিহত রূপলালের ছেলে জয় রবিদাস বলেন, ‘বাবাকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওতে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। বাবার হত্যার বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুবেল পাইকার বলেন, হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি দাবি করেন, ‘মামলায় আসামি ৭০০ জন। আমরা দুইজন গিয়ে মামলা তুলে নিতে বলবো—এমন অভিযোগ সাজানো। আমি তাকে চিনি না, কখনো তার বাড়িতেও যাইনি।’ অপর আসামি সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে তল্লাশি চালায়। এ সময় প্রদীপের কাছে থাকা একটি ব্যাগে পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পাওয়া যায়। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধ পেয়ে উত্তেজিত জনতা দুজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি দেয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত প্রদীপ লালকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ভোরে তার মৃত্যু হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ