যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার এত অস্থির ছিল কেন: আনু মুহাম্মদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে এত অস্থির ছিল।
তিনি বলেন, এভাবে চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় ফেলা হয়েছে। তারা চাইলে বলতে পারত, নির্বাচিত সরকার আসছে, আপনারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন।
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উৎসাহ অতিমাত্রায় বেশি ছিল, এমনকি বাজেটের সময় থেকেই।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎসাহ দেখে মনে হয় তারা বিভিন্ন কোম্পানির লবিস্ট হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
নতুন সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে। তিনি সতর্ক করেছেন, ‘চুক্তিটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’
চুক্তির শর্তের উদাহরণ দিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করলে তৈরি পোশাক খাত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। কিন্তু সেখানে অনেক শর্ত ও অনিশ্চয়তা আছে। তুলার দাম বেশি হবে, রপ্তানির পরিমাণও নির্দিষ্ট নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে স্বাক্ষরিত চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ভর্তুকি সীমিত করার শর্তও উদ্বেগজনক।
তিনি চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া চুক্তির আইনি ও নৈতিক বৈধতার বিষয়ে বলেন, এসব চুক্তি অনফেয়ার কন্ট্রাক্ট টার্মসের (অসম চুক্তি) উদাহরণ। এগুলো নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মাধ্যমে এগুলো পর্যালোচনা করা এখন সময়ের দাবি।
আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচের কো-অর্ডিনেটর বরকত উল্লাহ মারুফ। উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অর্থনীতির গবেষক মাহা মির্জা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে