প্রযুক্তি সস্তা হলো, তবু হারিয়ে গেল ১ জিবির পেনড্রাইভ
একসময় ১ গিগাবাইটের একটি পেনড্রাইভ ছিল প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে বেশ দামি ও আকর্ষণীয় পণ্য। ২০০২ সালের দিকে বাজারে ১ জিবি ধারণক্ষমতার ফ্ল্যাশ ড্রাইভ আসার পর তা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে স্টোরেজ প্রযুক্তিতে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এখন ১ জিবির পেনড্রাইভ সাধারণ বাজারে প্রায় অদৃশ্য।
বর্তমানে কিংস্টনের মতো ব্র্যান্ডের পেনড্রাইভের ধারণক্ষমতা সাধারণত ৬৪ জিবি থেকে শুরু হয়ে ৫১২ জিবি বা তারও বেশি পর্যন্ত যায়। অর্থাৎ কয়েক দশক আগে যে পরিমাণ জায়গাকে বিশাল মনে করা হতো, এখন তা আধুনিক ব্যবহারের জন্য একেবারেই অপ্রতুল। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ফ্ল্যাশ মেমোরির অভাব নয়, বরং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থার অর্থনীতি।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি প্রযুক্তি। গবেষণা ও উন্নয়নের ফলে মেমোরি সেলের আকার ক্রমেই ছোট হয়েছে। পাশাপাশি থ্রিডি ন্যান্ড প্রযুক্তিতে মেমোরি সেলগুলো একটির ওপর আরেকটি স্তরে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে একই আকারের চিপে আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে উচ্চ ধারণক্ষমতার ফ্ল্যাশ মেমোরি উৎপাদন এখন তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক।
২০০৫ সালে তোশিবা ও স্যানডিস্ক ৮ গিগাবিট ন্যান্ড চিপ উন্মোচনের পর ফ্ল্যাশ স্টোরেজের বাজারে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে থ্রিডি ন্যান্ড ও টিএলসি ন্যান্ড প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে এবং প্রতি গিগাবাইট স্টোরেজের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তাহলে ১ জিবির পেনড্রাইভ তৈরি করা হচ্ছে না কেন? মূল কারণ অর্থনৈতিক। একটি ফ্ল্যাশ ড্রাইভে শুধু মেমোরি চিপই থাকে না। ইউএসবি কানেক্টর, কন্ট্রোলার, সার্কিট বোর্ড, কেসিং, প্যাকেজিং, পরিবহন ও বিপণনের মতো খরচও থাকে। ফলে ৬৪ জিবির পরিবর্তে ১ জিবির মেমোরি চিপ ব্যবহার করলেই পণ্যটির মোট উৎপাদন ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমে যায় না। বরং বাজারে এর চাহিদা এত কম যে কম ধারণক্ষমতার ড্রাইভ তৈরি করে আলাদাভাবে বাজারজাত করা নির্মাতাদের জন্য লাভজনক নয়।
ব্যবহারিক প্রয়োজনও ছোট পেনড্রাইভের বাজার সংকুচিত করেছে। আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার ও বড় আকারের ফাইল সংরক্ষণে কয়েক গিগাবাইট জায়গা প্রয়োজন হয়। ফলে ১ জিবির মতো স্টোরেজ সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে খুব দ্রুতই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ছোট ফ্ল্যাশ মেমোরি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে। শিল্পকারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, পুরোনো সিস্টেম ও নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এখনো ২৫৬ মেগাবাইট বা ১ জিবির মতো ছোট স্টোরেজ ব্যবহৃত হয়। সেখানে বেশি ধারণক্ষমতার চেয়ে নির্ভরযোগ্যতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত দিন