‘কার এত জ্বালা’, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি হুমায়ুন কবির। তবে তিনি নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বাংলাদেশিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি প্রথমে প্রশ্ন করেন, “কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা?”
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশি মিনিস্টার হিসেবে আছি। আমি মনে করি না, আমার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে।”
এর আগে শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ছোটবেলা থেকে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এই বিএনপি নেতার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে কি না এবং থাকলে তিনি তা ত্যাগ করেছেন কি না—শপথ নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি হুমায়ুন কবির। তবে তিনি নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বাংলাদেশিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই।
যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধনকারী সংস্থা কোম্পানিজ হাউজ-এর সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবিরকে একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর ঠিকানা যুক্তরাজ্যে দেখানো হয়েছে।
‘হ্যামলেটস কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সিআইসি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকও ছিলেন হুমায়ুন কবির। কোম্পানিজ হাউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হন এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্বের সঙ্গে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ রয়েছে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা কিংবা স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারাবেন। তবে কেউ পরবর্তী সময়ে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্দিষ্ট শর্তে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।
এই সাংবিধানিক বিধানের প্রেক্ষাপটেই হুমায়ুন কবিরের কথিত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার প্রকাশিত প্রথম আলো-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা ও উচ্চশিক্ষা। তিনি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং একপর্যায়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
তবে যুক্তরাজ্যের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ব্যক্তির সে দেশে রাজনীতি করা বা সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বাধা নেই।
সাংবাদিকরা হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশিত খবর এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ তুললে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন।”
পরে এক সাংবাদিক প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করলে হুমায়ুন কবির বলেন, “তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জ্বালা উঠছে তার আবার নাকি?”
তিনি আরও বলেন, দেশের পক্ষে যারা জোরালো অবস্থান নেন, দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
মতামত দিন