Views Bangladesh Logo

‘ছেলে বাড়ি এসে কী দেখবে—শুধু বউ-ছেলের কবর!’

কারাগারের ফটকে মৃত স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে শেষ বিদায় জানানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম অবশেষে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও পরিবারে নেই কোনো স্বস্তি বা উচ্ছ্বাস। বরং জামিনের খবরে ভেঙে পড়েছেন তার স্বজনরা। তাদের প্রশ্ন—স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন না পেলে এখন এই জামিন দিয়ে কী হবে?

জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অস্থির সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে? ছেলে বাড়ি এসে কী দেখবে—শুধু বউ-ছেলের কবর!’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এক মামলায় জামিন হয়, তো আরেক মামলায় ধরে। কত চেষ্টা করেছি জামিনের। স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার একদিন আগেও যদি জামিন পেত, তাহলে আজ এই ভয়ংকর দিন আমাদের দেখতে হতো না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া সমান কথা। তারপরও জামিন হয়েছে, ভালো কথা—কিন্তু বাড়ি এসে সে কী পাবে?’

প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াকে অমানবিক উল্লেখ করে সাদ্দামের শ্বশুর ও জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদনকারী সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্যারোলে মুক্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আজ জামিন হয়েছে—এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, তবে এই জামিন আমাদের দুঃখ কমাতে পারছে না।’

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সাদ্দামকে জামিন দেন। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

এর মধ্যে শুক্রবার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে তার বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তাদের ৯ মাস বয়সী সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখান থেকে বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হলে সাদ্দাম কারাফটকে স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন।

ওই দিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে মা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সুবর্ণার বাবার বাড়ির কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ