হাদি হত্যার অভিযুক্তদের দেশে আনা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তকে ভারত থেকে দেশে আনার ব্যাপারে কলকাতার উপ-হাইকমিশনারে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের সাসপেক্ট হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিম বঙ্গে আটক করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তাদের খুব সম্ভবত ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভারতের কাছে ‘পর্যাপ্ত তথ্য’ চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে এ দুজনকে ফিরিয়ে আনা হবে। রোববার কলকাতার কাছে কনস্যুলার এক্সেস চাওয়া হয়েছে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কলকাতার উপ-হাইকমিশনার যোগাযোগ করেছে। তাদের কনস্যুলের এক্সেস আমরা চেয়েছি। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তা যথেষ্ট নয়। সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। আমরা আমাদের কূটনীতির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করব, যেন বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে আসামিদের দেশে ফেরত আনা যায়।
কত দিনে আসামিদের ফিরিয়ে আনা যেতে পারে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটা অন্য দেশের আইন আদালতের ব্যাপার। যেহেতু মাত্র এই ঘটনা ঘটেছে, আমরা কূটনীতির মাধ্যমে চেষ্টা করছি। কনস্যুলের এক্সেস চেয়েছি তো- সে অনুযায়ী রুলস অ্যান্ড প্রসিডিউর ফলো করতে হবে। আমরা তাই করছি। তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আশা করছি ভারত এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।
কনস্যুলের এক্সেস পেলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা কী ভারত গিয়ে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন অনুযায়ী তদন্ত চলবে। তাদের পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ আমরা নিব। রোববার কলকাতার কাছে কনস্যুলার এক্সেস চাওয়া হয়েছে। এই এক্সেস পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কলকাতা এখনো কিছু জানায়নি।
এর আগে শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) যশোরের ওপারের সীমান্ত এলাকা বনগাঁ থেকে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। এসটিএফের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় রিকশায় গুলিবিদ্দ হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে ৬ জানুয়ারি ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে