পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন বিএনপির এমপি মিষ্টি
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’
এর বাইরে পদত্যাগপত্রে আর কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা দেননি ফেরদৌসী আহমেদ। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সরাসরি নির্বাচনে দলগুলোর পাওয়া সংসদ সদস্যের সংখ্যার অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাদের গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং ৩ মে তাঁরা শপথ নেন। সে হিসাবে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তাকে জানানো হয়েছিল।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায়। লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম আলোচনায় আসে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর ওই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষর ছিল। তবে বর্তমান ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পদত্যাগপত্রে কোনো বক্তব্য দেননি তিনি।
মতামত দিন