Views Bangladesh Logo

বাড়ি ফেরা হলো না নবদম্পতির, ফিরল ১৪টি নিথর দেহ

বিয়ের রাতে পরা খয়েরি বেনারসি শাড়ি, হাতে মেহেদির রং, গায়ে গয়না, নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বরযাত্রীদের সঙ্গে বাবার বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু। কিন্তু স্বামীর বাড়ি পৌঁছানোর আগেই খুলনা-মোংলা মহাসড়কে থমকে গেল তার সব স্বপ্ন। নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি, দুর্ঘটনায় নিহত হন তার স্বামী আহাদুর রহমান সাব্বিরও।

অপরদিকে, পুত্রবধূকে নিয়ে আজ মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছনোর কথা ছিল আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্বজনদের। গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষা করছিলেন বর-কনে বরণের জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ সকালে গ্রাম বাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী নতুন বর-কনেকে বরণ করা হত, খাওয়া-দাওয়া এবং বাচ্চাদের হৈ-হুল্লোরে মুখরিত থাকত বাড়িটি। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে এই বাড়ির সব হাসি-আনন্দ। কয়েক ঘন্টা আগেও যেখানে ছিল বিয়ের আমেজ, সেখানে এখন শোকের মাতম।

গত বুধবার (১১ মার্চ) রাতে খুলনার কয়রায় বিয়ে হয় মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামের আহাদুর রহমান সাব্বিরের সঙ্গে কয়রার নাকসা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতুর। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে বর-কনে, বরপক্ষ ও কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু বিকেল নাগাদ রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এতে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়িতে থাকা ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, কনের নানি আনোয়ারা বেগম, কনের দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা ও মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ, শিশু ইরাম, সামিউল, আলিফ ও আব্দুল্লাহ।

গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোংলায় ৯টি, কয়রায় ৪টি এবং রামপালে নেওয়া হয়েছে মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ।

এই ঘটনায় মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জুম্মার নামাজের পর এসব মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানাজায় অংশ নেবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নিহত বরের ভাই জনি বলেন, 'আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।'

কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ