বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা
এনামুল হাসান নয়ন নামে এক ‘জুলাই যোদ্ধা’কে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে ওসির সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এতে দেখা যায়, বর্তমান প্রশাসনকে তারা বসিয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই নেতা।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসি ও মাহদী হাসানের সঙ্গে ব্যাপক বাক্য বিনিময় হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী ওসির কাছে জানতে চান, কেন এনামুলকে আটক করা হলো। তিনি ওসিকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে আজকে এই প্রশাসন বসেছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি।
এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর রাতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে কলিমনগরের বাড়ি থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। পরে দুপুরে থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে আনেন জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সীর মধ্যস্থতায় এনামুল হক নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসান জানান, এনামুল হাসান নয়ন ইতঃপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় দল থেকে রেবিয়ে এসে আমাদের সাথে সম্মুখ সারিতে লড়াই করেছেন।
তিনি আরও জানান, নয়নকে ছাড়াতে শুরুতে আমরা থানার ওসিকে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বললেও তিনি পাত্তা দেন নাই। পরবর্তীতে সহকারী পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম জানান, আমরা ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটি অনুসারে এনামুলকে আটক করেছি। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয়পক্ষের মধ্যস্থতায় এনামুল হাসান তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে