২০০৬ সালে নকলের দাফন-কাফন করে বিদায় নিয়েছিলাম, এবারও ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে নকলের দাফন-কাফন করে বিদায় নিয়েছিলাম। এবারও প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। এতে বরিশাল অঞ্চলের অধীন বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁস হতে দেওয়া যাবে না। প্রশ্ন ফাঁস হলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, মেধার কোনো বিকল্প নেই। মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির দায়িত্ব শিক্ষকদেরই নিতে হবে। আমরা শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বদ্ধপরিকর।
নকল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে নকলের দাফন-কাফন করে বিদায় নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখা গেল, করোনার মতো নকলও ভেরিয়েন্ট বদলে আবার ফিরে এসেছে। এখন সেই সুযোগ আর থাকবে না।
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন আইনি বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, খাতা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রয়োজন হলে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে এসে নিজে যাচাই করব। বিষয়গুলো আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের সমস্যা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চিহ্নিত করতেই আমার এই সফর।
শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আদালতে আটকে থাকা বিভিন্ন নিয়োগসংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামী ২ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মতামত দিন