Views Bangladesh Logo

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

ইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহারের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য ‘উদ্বেগজনক ও ক্ষতিকর’ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংস্থাটির মতে, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রতিফলন।

ডব্লিউসিএ এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ণ সদস্য মর্যাদা ও বিপুল সমর্থকসংবলিত একটি দেশের মতো বাংলাদেশের অনুপস্থিতি টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে একটি দুঃখজনক নজির। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী টম মফাত বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহারের ফলে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টির শীর্ষ আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনুপস্থিতি তৈরি হলো। এটি আমাদের খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এবং কোটি কোটি সমর্থকের জন্য এক বেদনাদায়ক মুহূর্ত।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন এবং ক্রিকেটকে বিভক্ত না করে ঐক্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার সময় এখনই। টম মফাতের ভাষায়, বিভাজন বা বর্জনের সুযোগ না দিয়ে আমরা চাই ক্রিকেটের নেতৃত্বস্থানীয়রা গভর্নিং বডি, লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনের সঙ্গে একযোগে কাজ করুক। খেলাটিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

ডব্লিউসিএ জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই ঘটনা ক্রিকেটের ভেতরে বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যাগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। টম মফাত বলেন, বিভিন্ন চুক্তি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করার বিষয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক পর্যায়ে ক্রিকেট পরিচালনার বর্তমান মডেলের গুরুতর সীমাবদ্ধতাগুলোকে প্রকাশ করেছে। এসব বিষয় উপেক্ষিত থাকলে খেলাটির প্রতি আস্থা, ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ—সবই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্লেষক ও সমর্থকেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, আইসিসি, সদস্য বোর্ড এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পরও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ডব্লিউসিএ’র এমন বক্তব্যের পরও এ বিষয়ে এখনো আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পুরো ঘটনাপ্রবাহ বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনায় স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ