Views Bangladesh Logo

জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তায় আরও ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির সরবরাহ চেইন যেমন ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি দামের ক্ষেত্রেও উত্থান-পতন দেখা যাচ্ছে। শতভাগ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে জ্বালানি ও সার সরবরাহ আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে দেশের নিম্নআয়ের মানুষদের।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা এবং শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখার প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে আমদানিকৃত এলএনজি। নতুন এই আন্তর্জাতিক তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট বা খোলা বাজারের চড়া দামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের এলএনজি ক্রয়ের বকেয়া মেটানো সহজ হবে, অন্যদিকে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বেশি সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

এই পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি সাজানো হয়েছে আইডিএ পেমেন্ট গ্যারান্টি-সমর্থিত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা পাবেন আমদানিকারকেরা, যা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান ডিভিশনাল ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই সহায়তা বাংলাদেশকে স্থিতিশীল এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতে সহায়তা করবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলায়িঙ্কা এডেবিরি বলেন, অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় গ্যাস অপেক্ষাকৃত কম দূষণকারী ও সাশ্রয়ী জ্বালানি। নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং ব্যয়বহুল তরল জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আর্থিক সাশ্রয়ও করবে।

উল্লেখ্য, দেশের জ্বালানি অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ৩৫ কোটি ডলারের মূল প্রকল্পটির প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৮ জুন। নতুন এই অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে চলমান প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও পরিধি আরও বৃদ্ধি পেল, যা ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশীয় জ্বালানি খাতের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ