১৩৯ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় সকাল ৮টায় সারাদেশের ১৩৯ উপজেলায় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এই পর্বে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ।
নির্বাচনে ১ হাজার ৬৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬২৫ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪০ প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে আট এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন করে মোট ২৮ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সারা দেশে এরই মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪১৮টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম ধাপে ৪১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা ছয়টির বেশি হলে বুথপ্রতি অতিরিক্ত একজন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পিসি ও এপিসিরা (তিনজন) অস্ত্রসহ এবং আনসার-ভিডিপি সদস্য অস্ত্রবিহীন ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। তারা সবাই ৬ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাঁচদিনের জন্য ভোটের মাঠে মোতায়েন থাকবেন। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে স্বাভাবিক এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ বা ১৯ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিশেষ এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০-২১ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। উপজেলার আয়তন, ভোটার সংখ্যা ও ভোট কেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতি উপজেলায় দুই-চার প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকার দ্বীপাঞ্চলে কোস্টগার্ড মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোট কেন্দ্রে আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোট গ্রহণের আগের দুদিন, ভোট গ্রহণের দিন ও ভোট গ্রহণের পরের দুদিনসহ পাঁচদিন নিয়োজিত থাকবেন।
প্রথম ধাপে ১৫০ উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন কারণে এখন ভোট গ্রহণ হবে ১৩৯ উপজেলায়। ইভিএমে ভোট হবে ২২ উপজেলায়। হাতিয়া, মুন্সিগঞ্জ সদর, বাগেরহাট সদর, পরশুরাম ও শিবচর—পাঁচটি উপজেলার সব পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এজন্য এ পাঁচ উপজেলায় ভোটের প্রয়োজন পড়ছে না। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের তিনটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে ইসি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে