Views Bangladesh Logo

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ, মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও কর্নেল (অব.) অলি

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ভোটাভুটির পথ তৈরি হয়।

জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। সংসদে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭। অন্যদিকে অলি আহমদের পক্ষে রয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সংখ্যার হিসাবে ফখরুল অনেকটাই এগিয়ে আছেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই সংসদ ভবনে ভোট গণনা করা হবে। এরপর বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা এবং একই দিনে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে একটি বর্তমানে শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও এ নির্বাচনে ভোট দেবেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে সংসদে যে দলের যত বেশি সদস্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রভাবও তত বেশি। বর্তমান আসন বিন্যাসে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের অবস্থান সংখ্যাগতভাবে শক্তিশালী।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপার গ্রহণ করে নির্দিষ্ট স্থানে প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভোট দেবেন। ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। এই অংশ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে কার্যত একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার দুই প্রার্থী মাঠে থাকায় প্রায় সাড়ে তিন দশক পর আবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। ফলে সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এর ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ভোট ও গণনা শেষে আজই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম জানা যাবে। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চিফ হুইপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সব মিলিয়ে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ