সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে লাইনে ভোটারেরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে।
রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভোটারেরা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোট দিতে। তবে, সকালের প্রথম ভাগে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।
এর আগে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রার্থীরা প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে এসব প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এ নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে মাঠে আছেন প্রায় নয় লাখ সদস্য। এর মধ্যে মূল দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য।
সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে দায়িত্ব পালন করবেন এক লাখ তিন হাজার সেনাসদস্য। এছাড়া পাঁচ জেলার ১৭টি আসনে বিশেষ নজরদারিতে থাকবেন পাঁচ হাজার নৌবাহিনী ও তিন হাজার ৫০০ বিমানবাহিনীর সদস্য। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কারচুপি ও সহিংসতা ঠেকাতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য বডিওর্ন ক্যামেরা পরে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারিতে থাকবে ৫০০-এর বেশি ড্রোন।
সূত্র জানায়, সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৪২ হাজার ৩৫৮টি। এর মধ্যে অতি সংবেদনশীল কেন্দ্র রয়েছে ৬ হাজার ৭৫০টি এবং সংবেদনশীল কেন্দ্র ৯ হাজার ১২০টি। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৬৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৩৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৭৯ লাখ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন প্রায় ৭ হাজার জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৮৫ লাখ।
ইসি জানিয়েছে, কেবল বাহিনী মোতায়েনই নয়, যেকোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসও। মোবাইল কোর্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানের জন্য।
ভোটার সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দিনশেষে সম্মিলিত চেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, 'অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে কমিশন অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বদ্ধ পরিকর।'

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে